প্রায় দুই দশক ধরে অচল থাকা সিলেট নগরের চাঁদনীঘাট এলাকার ফোয়ারাটি রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে আবারও চালু করা হয়েছিল। তবে চালুর এক দিনের মধ্যেই সেটি ফের বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুরমা নদীর তীরে ঘুরতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার চাঁদনীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফোয়ারাটি পানিশূন্য ও বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সফর শেষ হওয়ার পরদিন ফোয়ারাটি সচল রাখতে ব্যবহৃত জেনারেটর সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপরই আবার বন্ধ হয়ে যায় সেটি।
গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট সফরে আসেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। এর অংশ হিসেবে সার্কিট হাউসসংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়েও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। একই সময়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফোয়ারাটিও সাময়িকভাবে চালু করে সিলেট সিটি করপোরেশন।
তবে রাষ্ট্রপতির সফর শেষ হওয়ার পরপরই আগের চিত্রে ফিরে যায় এলাকাটি। শুক্রবার বিকেলে ফোয়ারাটি বন্ধ অবস্থায় দেখা যায়। পাশেই কয়েকজন তরুণ বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন।
শুধু ফোয়ারা নয়, ওয়াকওয়ের পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে সরিয়ে দেওয়া ভ্রাম্যমাণ টং দোকানগুলো আবারও সেখানে বসেছে। চটপটি ও ফুচকার দোকানের পাশাপাশি দোকানিদের বসানো চেয়ারও ওয়াকওয়ের বড় অংশ দখল করে আছে।
এদিকে চাঁদনীঘাট ও ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ এলাকাতেও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চাঁদনীঘাটে ঘুরতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শহিদ আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফোয়ারাটি বন্ধ দেখে এসেছেন তিনি। রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে সেটি চালু হওয়ায় ভালো লেগেছিল। কিন্তু পরদিনই আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়েছেন।
আরেক দর্শনার্থী কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, দোকান ও গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে নদীর পাড়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার পরিবেশ নেই। তাঁর মতে, সুরমার তীরের এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটি আরও সুন্দর ও পর্যটকবান্ধব করা সম্ভব।
পাঁচ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে সৌন্দর্যবর্ধন
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর উত্তর পাড়ের চাঁদনীঘাট এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রায় ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় ওয়াকওয়ে, স্টিলের রেলিং ও নান্দনিক ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়।
২০০৩ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৫ সালে তাঁর মাধ্যমে সুরমা নদীর পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধিত এলাকার উদ্বোধন করা হয়।
পরবর্তীতে কিনব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘরসংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকার এই অংশটি নগরবাসীর বিনোদন ও দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। সুরমা নদীর তীর থেকে ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর দেখার সুযোগ থাকায় স্থানটি স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয়।
তবে উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর দীর্ঘ সময় সেটি আর সচল হয়নি। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেনারেটরের মাধ্যমে সাময়িকভাবে ফোয়ারাটি চালু করা হয়।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর বক্তব্য জানতে শুক্রবার রাতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সিসিকের একটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে জেনারেটরের সাহায্যে ফোয়ারাটি চালু করা হয়েছিল। সফর শেষ হওয়ার পরদিন জেনারেটরটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ফোয়ারাটিও আবার বন্ধ হয়ে যায়।





