সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপে বিভাগের ১০টি কলেজ কোনো শিক্ষার্থী পায়নি। এর মধ্যে সিলেট জেলার দুটি, সুনামগঞ্জের দুটি, মৌলভীবাজারের দুটি ও হবিগঞ্জের চারটি কলেজ রয়েছে।
বুধবার রাতে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা গেছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বোর্ডের অধীনে সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ৩৪৯টি কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট আসন রয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬০টি। বিপরীতে প্রথম ধাপে আবেদন করেছেন ৪৮ হাজার ৩৩৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৪৭ হাজার ৮৮১ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে প্রথম ধাপে ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হননি। একই সময়ে বিভাগের ১০টি কলেজে একজন শিক্ষার্থীও নির্বাচিত হয়নি।
সিলেটের যে দুই কলেজে শিক্ষার্থী নেই
শিক্ষার্থী না পাওয়া সিলেট জেলার দুটি কলেজ হলো—বিশ্বনাথের আশুগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং জৈন্তাপুরের রাংপানি ক্যাপ্টেন রশিদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চনারচর এসইএসডিপি মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং দোয়ারাবাজারের মিতালী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজও প্রথম ধাপে কোনো শিক্ষার্থী পায়নি।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রাউতগাঁও হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও শ্রীমঙ্গলের রেনার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবস্থাও একই।
হবিগঞ্জের চারটি কলেজ হলো—আজমিরীগঞ্জের হাজী আব্দুল হেকিম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাহুবলের মানবকল্যাণ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাধবপুরের প্রেমদাময়ী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ডা. মহিউদ্দিন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
কেন আগ্রহ নেই, উঠছে প্রশ্ন
একাদশে ভর্তির জন্য বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করলেও বিভাগের ১০টি কলেজে প্রথম ধাপে একজন শিক্ষার্থীও না পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কলেজগুলোর শিক্ষার পরিবেশ, ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক অবস্থান শিক্ষার্থীদের পছন্দের ওপর প্রভাব ফেলছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠতে পারে।
তবে প্রথম ধাপের ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো কলেজের শিক্ষার মান বা প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পরবর্তী ভর্তি ধাপগুলোতে এসব প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা এসব কলেজে শিক্ষার্থী সংকটের কারণ কী এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানগুলোর আসন পূরণে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।





