সিলেটের গোয়াইনঘাটে জটিল সিজারিয়ান রোগীর জন্য জরুরি রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণ সাংবাদিক মারজানুল আযহার জুনেদ। মা ও অনাগত শিশুর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় রক্তের সংকটের কথা জানতে পেরে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালে গিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন তিনি।

জানা গেছে, গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন হয়। সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে রোগীর স্বজনরা রক্তের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে এগিয়ে আসেন গোয়াইনঘাট উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ও তরুণ সাংবাদিক মারজানুল আযহার জুনেদ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে তিনি রোগীর জন্য রক্তদান করেন। তাঁর রক্তদানের পর রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

এর আগেও রক্ত দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন ইউএনও-ওসি

গোয়াইনঘাটে সংকটাপন্ন প্রসূতি রোগীর পাশে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রক্তদানের ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি রক্তের সংকটে থাকা এক প্রসূতির জন্য নিজে রক্ত দিয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী। ওই ঘটনায় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, জরুরি সময়ে রক্ত না পেলে প্রসূতি ও নবজাতক—উভয়েরই ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।

এর আগে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুকও এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর চিকিৎসায় রক্ত দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার পর এবার একইভাবে একজন সাংবাদিকের স্বেচ্ছায় রক্তদানের ঘটনা স্থানীয়ভাবে নতুন করে মানবিকতার বার্তা দিয়েছে।

‘এক ব্যাগ রক্ত হয়তো সামান্য, কিন্তু কারও জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ’

রক্তদানের পর সাংবাদিক মারজানুল আযহার জুনেদ বলেন, “এক ব্যাগ রক্ত হয়তো আমার জন্য সামান্য বিষয়, কিন্তু একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য এটি জীবন বাঁচানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে। মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়াতে পারাটাই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, রক্তের প্রয়োজনের খবর পেয়ে কোনো ধরনের দ্বিধা না করে হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একজন মানুষের বিপদের সময়ে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতে পারাকে তিনি দায়িত্ব হিসেবেই দেখেন।

স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জুনেদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, মানুষের সংকটের সময়ে রক্তদানের মতো মানবিক কাজে সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা কিংবা সমাজের অন্য পেশার মানুষের এগিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে একদিকে যেমন জরুরি সময়ে রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সহায়তা হয়, অন্যদিকে সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানের ইতিবাচক বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে।

মারজানুল আযহার জুনেদ সাংবাদিকতার পাশাপাশি গোয়াইনঘাট উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকাশিত তথ্যেও তাকে গোয়াইনঘাটের সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জটিল সিজারিয়ান রোগীর চিকিৎসার সংকটময় সময়ে রক্ত দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে জুনেদ আবারও দেখালেন—পেশাগত পরিচয়ের বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি বড় জায়গা রয়েছে মানবিকতায়।