জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বিশেষ গবেষণা পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। ২০১৮-২০১৯ থেকে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের মোট ৩৪ শিক্ষক এ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রসায়ন বিভাগের আটজন শিক্ষক রয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, গ্রন্থাগারিক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিবহন প্রশাসক ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষাদান ও ডিগ্রি প্রদান নয়; নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করাও এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষকদের চিন্তার পরিসর সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গবেষণাভিত্তিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে গবেষণায় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘বিশেষ গবেষণা পুরস্কার’ প্রদান করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।” বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গবেষণার পরিধি আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি পুরস্কারপ্রাপ্তদের পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তাকেও গবেষণায় উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘বিশেষ গবেষণা পুরস্কার’ শুধু স্বীকৃতি নয়, গবেষণায় আরও উৎকর্ষ অর্জনের অনুপ্রেরণা। নতুন ও তরুণ গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ থেকে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট ৩৪ জন শিক্ষক এ পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে পাঁচজন, ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে পাঁচজন এবং ২০১৯-২০২০ ও ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন।





