রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বিলধামু গ্রামে একই পরিবারের ছয় সন্তান পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে হাফেজে কোরআন হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মুফতি ও খতিবসহ দ্বীনি দায়িত্ব পালন করছেন। অপর দুই সন্তানও ইসলামী শিক্ষায় অধ্যয়নরত।
পরিবারটির এই অর্জনে স্বজনদের পাশাপাশি আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, একই পরিবারের ছয় সন্তানের হিফজ সম্পন্ন করার ঘটনা এলাকায় ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মরহুম হাজি মোঃ আজিমউদ্দিন মন্ডল (রহ.)-এর বড় ছেলে হাজি মোঃ তোফাজ্জল হোসেন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা। ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে তিনি ও তাঁর পরিবার গুরুত্ব দেন। পরিবারের সহযোগিতা ও সন্তানদের নিয়মিত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে একে একে ছয় সন্তানই কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন।
পরিবারের বড় সন্তান মোঃ ইলিয়াস হোসেন নারুয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রাম জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোঃ জোবায়ের হোসেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মুহতামিম হিসেবে কর্মরত। মোঃ ইউসুফ ঢাকার একটি কিতাবখানায় দায়িত্ব পালন করছেন। আর মোঃ ইউনুস ঢাকার কেরানীগঞ্জের নতুন রায়ের চর জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অপর দুই সন্তান মোঃ উমায়ের শরীয়তপুরে ইসলামী শিক্ষায় অধ্যয়নরত। আর মোঃ উজায়ের ঢাকার ইসলামপুরে ‘জালালাইন’ অধ্যয়ন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই পরিবারের ছয় সন্তান কোরআনের হাফেজ হওয়া তাঁদের এলাকায় বিরল ঘটনা। এ কারণে পরিবারটি স্থানীয়ভাবে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানদের হিফজ সম্পন্ন করার পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ, সন্তানদের অধ্যবসায় এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রতি পরিবারের আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সন্তানদের কোরআন শিক্ষা ও ইসলামী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিতে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সচেতনভাবে কাজ করেছে।
হাজি মোঃ তোফাজ্জল হোসেনের পরিবারের এ অর্জন তাঁদের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি স্থানীয়ভাবে কোরআন শিক্ষা ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরিতেও এটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। ভবিষ্যতে সন্তানরা দ্বীন ও মানবতার কল্যাণে কাজ করবেন—এমন প্রত্যাশা পরিবারের।





