দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা, ন্যূনতম সম্মানী নির্ধারণসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে সমাবেশ করেছেন দলিল লেখকরা। দাবি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জেলা দলিল লেখক সমিতির উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা কমিটির নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সরকার।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান। তবে আধুনিকায়নের অজুহাতে দলিল লেখকদের পেশা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ তারা মেনে নেবেন না। নিবন্ধন ব্যবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি এই পেশার সঙ্গে জড়িতদের জীবিকা ও পেশাগত মর্যাদার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সমিতির সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, প্রতিটি দলিলের জন্য ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে দলিল মুসাবিদা ও রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল নিষিদ্ধ করা এবং থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলিল লেখার লাইসেন্স না দেওয়া।
এ ছাড়া সরকারি অর্থায়নে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের স্থান নির্মাণ, জমির ক্রেতা-বিক্রেতার সরবরাহ করা কাগজপত্রে ভুলের দায়ে দলিল লেখকদের আসামি না করা এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রমের সঙ্গে দলিল লেখকদের পেশা সরাসরি যুক্ত। তাই নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি পেশাটির সঙ্গে যুক্তদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সমাবেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক দলিল লেখক অংশ নেন।





