পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে রাজবাড়ীর জৌকুড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জের মধ্যে ফেরি চলাচল টানা ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে ফেরি বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন এই নৌরুট ব্যবহারকারী যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা। অনেকে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে নৌকা ও স্পিডবোটে পদ্মা পার হচ্ছেন।
ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছ থেকে নৌরুটটির দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এরপর ‘কপোতি’ ও ‘ক্যামেলিয়া’ নামের দুটি ফেরি দিয়ে নিয়মিত যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হতো। স্বাভাবিক সময়ে নদী পার হতে যেখানে প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট লাগত, বর্তমানে তীব্র স্রোতের কারণে সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই ঘণ্টায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত স্রোতে ফেরির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়াসহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তা বিবেচনায় এ অবস্থায় ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে জৌকুড়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের পশ্চিম পাশে দুটি ফেরি অবস্থান করছে। বিপরীতে পাশের ট্রলারঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্পিডবোটে পদ্মা পার হচ্ছেন যাত্রীরা। ফেরি ও ভারী যানবাহনের চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়া নতুন ঘটনা নয়। প্রয়োজনের তুলনায় ফেরি কম থাকা এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রায়ই সেবা ব্যাহত হয়। বর্তমানে একটি ফেরি প্রায় তিন মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। অন্য ফেরিটিও পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে চলাচলের বাইরে রয়েছে।
চালকদের ভাষ্য, জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌপথটি পাবনা ছাড়াও সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন এই পথে পণ্যবাহী ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহন পারাপার হয়। ফেরি বন্ধ থাকায় এসব যানবাহনকে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময়ের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয়ও বাড়ছে।
জৌকুড়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক রফিউল ইসলাম বলেন, ‘কপোতি ও ক্যামেলিয়া ফেরি দিয়ে নিয়মিত চারবার করে জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ পথে যাতায়াত করা হতো। বর্তমানে পদ্মায় স্রোত অনেক বেশি থাকায় ফেরির ইঞ্জিন ওভারহিট হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কদম’ নামের একটি ফেরি চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে মেরিন বিভাগের আপত্তির কারণে সেটিও চালু করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর স্রোত ও নৌপথের বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পর্যালোচনা করে নিরাপদভাবে ফেরি চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘ সময় ধরে এই নৌরুটের ওপর নির্ভরশীল যাত্রী, চালক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।





