কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ঘটনায় আটক তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। পরদিন শনিবার দুপুরে সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় অপ্রতিমের সঙ্গে এক যুবককে চলাচল করতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুই যুবককেও আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে।
অপ্রতিমের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর পরিবারের সঙ্গে খাবার খেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল সে। এরপর আর ফেরেনি। সন্ধান না পেয়ে তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ছেলেটি আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বাইরে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরে সেটিই তার মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত ছিল কি না, তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার হওয়া ফোন এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন সদর দক্ষিণ থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান।





