বাবা তখন খুঁটির সঙ্গে বাঁধা। চারপাশে মানুষের ভিড়। মুখে অসহায়ত্ব আর চোখেমুখে লজ্জার ছাপ। এমন দৃশ্য দেখে কাছে ছুটে আসে মাত্র নয় বছরের মেয়ে। বাবাকে আর মারধর না করার জন্য আকুতি জানায় সে। এরপর চায়ের কাপে পাউরুটি ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দিতে থাকে। অসহায় মেয়েটির সেই ভালোবাসার দৃশ্য কাঁদিয়েছে উপস্থিত অনেককেই।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার একটি বাজারে ঘটেছে ঘটনাটি। স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে একটি মুদিদোকানে চুরির অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁকে মারধর করে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

পরদিন শনিবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে তাঁর ছোট্ট মেয়ে। বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি। উপস্থিত লোকজনের কাছে বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। একপর্যায়ে বাবার জন্য চা ও পাউরুটি নিয়ে এসে নিজ হাতে খাওয়াতে শুরু করে সে।

চায়ের কাপে রুটি ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দেওয়ার সময় শিশুটির চোখে ছিল কান্না আর অসহায় আকুতি। চারপাশে মানুষের ভিড় থাকলেও যেন সেদিকে কোনো খেয়াল ছিল না তার। ছোট্ট হাতে বাবাকে খাওয়ানোর সেই দৃশ্য পরে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজ হোসেন ফরাজী জানান, সকালে বাজারে এসে তাঁরা শিশুটিকে বাবার পাশে কাঁদতে দেখেন। মেয়েটি চায়ে রুটি ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দিচ্ছিল। দৃশ্যটি উপস্থিত সবার মনে দাগ কাটে। পরে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে ওই ব্যক্তি জানান, ঘটনার জন্য তিনি লজ্জিত। দুই সন্তানের কথা চিন্তা করে সামনে নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করবেন। উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে স্থানীয় লোকজন নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ায় এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

সূত্র - প্রথম আলো