জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) বিরুদ্ধে অসহযোগিতা, রূঢ় আচরণ ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি (সিডিউল) নিতে গিয়ে এমন আচরণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে ফাতেমা তুজ জোহরা এ অভিযোগ করেন।
পোস্টে তিনি জানান, হল সংসদের বার্ষিক ফেস্ট আয়োজনসংক্রান্ত বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইচ উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন তিনি। এ জন্য উপাচার্যের পিএসের কাছে সাক্ষাতের একটি সময়সূচি চান।
ফাতেমার ভাষ্য, পিএস প্রথমে জানান, উপাচার্যের সিডিউল দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর নয়। পরে দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকার কথা স্বীকার করলেও ওই দিন উপাচার্যকে বিষয়টি জানাতে পারবেন না বলে জানান। একপর্যায়ে উপাচার্য আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ফাতেমা তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, উপাচার্য কখন আসবেন তা না জেনে একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির পক্ষে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি স্যার আসার পর যেন তাদের জানানো হয়, সে অনুরোধ করেন। এ সময় পিএস রাগান্বিত হয়ে উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে সিডিউল দেবেন না বলে জানান—এমন অভিযোগ করেন তিনি।
জকসু এই প্রতিনিধি আরও দাবি করেন, এর আগেও জকসু ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপাচার্যের পিএসের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার কাছে শুধু সাক্ষাতের সময়সূচি নেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের হয়রানির শিকার হতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পোস্টে ফাতেমা আরও দাবি করেন, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সিডিউল নিতে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হলেও অন্য পরিচয়ের কিছু ব্যক্তিকে সরাসরি ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া উপাচার্যের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট পিএসকে আচরণবিধি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হবে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন জকসুর এই প্রতিনিধি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পিএসের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। একই সঙ্গে ফাতেমা তুজ জোহারার অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি সামনে আসার পর উপাচার্যের দপ্তরে শিক্ষার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া এবং সাক্ষাতের সময়সূচি নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সবার জন্য পেশাদার ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।





