ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় বাড়ছে কৃষকের দুশ্চিন্তা। পাঁচ মাসের মধ্যে দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জমি চাষ, সেচ, ফসল কাটা ও পরিবহন—কৃষির প্রায় প্রতিটি ধাপেই বাড়তি খরচের আশঙ্কা করছেন রাজবাড়ীর কৃষকেরা। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে ফসলের দাম না বাড়লে লোকসানে পড়ার শঙ্কাও রয়েছে তাঁদের।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী এলাকার কৃষক সরজিৎ কুমার বলেন, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর ও কম্বাইন হারভেস্টার থেকে শুরু করে ফসল পরিবহন পর্যন্ত কৃষি এখন অনেকটাই জ্বালানি-নির্ভর। কৃষক আনিসুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জাক শেখের ভাষ্য, ডিজেলের দাম বাড়লে জমি প্রস্তুত থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই খরচ বাড়বে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ওপর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে।

কৃষক আব্বাস আলী ও মকবুল শেখ বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষক যদি ন্যায্যমূল্য না পান, তাহলে চাষাবাদে আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে সার, বীজ ও কীটনাশকের দামও বাড়তে পারে। ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি আমন মৌসুমে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলক কম পড়বে। রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, আমন মূলত বৃষ্টিনির্ভর হওয়ায় বর্তমানে সেচের প্রয়োজন কম। বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষ বলেন, রবি মৌসুমে সেচের চাহিদা বেশি থাকায় তখন প্রভাব বাড়তে পারে। কৃষকের ব্যয় কমাতে সৌরচালিত সেচ পাম্প ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।