সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দমদমা ও তুরুং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশের ঘটনায় কৃষকের ফসলের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।প্রতিদিনই রাতের আঁধারে অবৈধ ভাবে প্রবেশ কালে ভারত থেকে গরুর পাল চলাচলের সময় রোপণ করা ধানের চারা মাড়িয়ে নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সীমান্ত এলাকার কৃষকেরা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে দমদমা সীমান্ত এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক গরু চলাচলের সময় রফিক উদ্দিন নামের এক কৃষকের ২৫ শতক জমির ধানের চারা নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দুই শতাধিক গরুর পাল, নষ্ট হচ্ছে জমির ধান
ভুক্তভোগী কৃষক রফিক উদ্দিন বলেন, ভোররাতে প্রায় দুই শতাধিক গরু তাঁর জমির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েক দিন আগে রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট করে। তাঁর দাবি, গত তিন-চার মাস ধরে ভারতীয় গরুর কারণে সীমান্ত এলাকার কৃষকেরা ফসলের ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
রফিক উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, দমদমা সীমান্তের কথিত ‘লাইনম্যান’ ইমরান হোসেন কালা ও আবু সাঈদের মাধ্যমে রাতে ভারত থেকে গরু আনা হচ্ছে। এ কাজে বিজিবির কিছু অসাধু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগও করেন তিনি।
তাঁর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত জমিটি দমদমা বিজিবি ক্যাম্প থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে। এত কাছ দিয়ে নিয়মিত গরু চলাচলের ঘটনা কীভাবে ঘটছে, তা তদন্ত করার আহ্বান নান বিজিবি কর্তৃপক্ষকে।
ফসল নষ্টের পাশাপাশি স্থাপনার ক্ষতির অভিযোগ এলাকাবাসীর
আরেক ভুক্তভোগী কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধা আজহার আলী অভিযোগ করেন, ইমরান, আবু সাঈদসহ কয়েকজন ভারতীয় গরু আনার সঙ্গে জড়িত। রাতের আঁধারে গরুর পাল চলাচলের সময় পুকুরপাড়ের গাছপালা ও বাড়ির আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আজহার আলীর অভিযোগ, গরুর চলাচলে বাধা দিলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।
কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, ভারতীয় গরুর কারণে তাঁর কয়েক বিঘা জমির ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। গরু নিয়ে কৃষকের জমির ফসল নষ্ট না করতে সংশ্লিষ্টদের বারবার বলা হলেও কোনো ফল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জসিম উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, দমদমা সীমান্তের কথিত দুই লাইনম্যানসহ কয়েকজন গরুপ্রতি এক হাজার টাকা করে আদায় করছেন। বিষয়টি বিজিবি ক্যাম্পে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

বিজিবি সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ স্থানীয়দের
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কথিত লাইনম্যান হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে ইমরান ও আবু সাঈদ দমদমা সীমান্তে বিজিবি সদস্য মাসুম বিল্লাহর ওপর হামলার মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলে তাঁরা জানেন।
তাঁদের অভিযোগ, বিজিবির কিছু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে গরু আনা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট মামলার নথি এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
লাইনম্যানের অভিযোগ অস্বীকার ইমরানের
অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান হোসেন কালা বলেন, বর্তমানে তিনি কোনো লাইনম্যানের দায়িত্বে নেই। অনেক আগেই তিনি এ ধরনের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।
কৃষকের ধান যারা নষ্ট করেছে, তাদের কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “বিজিবি ও সাংবাদিককে বলে লাভ কী?”
বিজিবির বক্তব্য বলেন,
অভিযোগের বিষয়ে দমদমা বিওপির নায়েব সুবেদার মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে ‘লাইনম্যান’ বলতে কোনো কার্যক্রম নেই। কোনো বিজিবি সদস্য এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে থাকে এবং নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়। সীমান্তের নজুরভাঙা থেকে ভিতরগুল পর্যন্ত বিজিবির টহল ছিল। গরু নিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া খেয়ে কিছু ফসল নষ্ট হয়ে থাকতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ছেলে ক্যাম্পে এসে বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
প্রশাসনের প্রতি তদন্তের দাবি জনপ্রতিনিধির
রুস্তুমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, ভুক্তভোগী কৃষক রফিক উদ্দিন তাঁর কাছে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা গরু আনলে রাস্তা দিয়ে গরু আনলে হয়। কিন্তু কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করে গরু আনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ফসলি জমি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।




