তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরও জেনারেটর চালু হয়নি। ফলে অন্ধকার ও ভ্যাপসা গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের। শিশু, বৃদ্ধ ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের স্বজনদের হাতপাখা ও কাগজ দিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ গরম থেকে স্বস্তি পেতে ওয়ার্ড ছেড়ে করিডর, বারান্দা কিংবা হাসপাতালের বাইরে অবস্থান নেন।
সোমবার রাতে সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ অন্ধকারে রয়েছে। ফ্যান বন্ধ থাকায় শিশু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে গরমে কষ্ট পাচ্ছেন রোগীরা। তবে নার্স স্টেশনে আইপিএসের মাধ্যমে ফ্যান চলতে দেখা যায়। হাসপাতালের ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়।
অথচ চলতি বছরের ২৭ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে হাসপাতালটিতে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি নতুন জেনারেটর দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে সেটি ব্যবহারের কথা। কিন্তু সোমবার রাতে লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালু না হওয়ায় এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মন্নানপুর গ্রামের ইন্নছ মিয়া ছয় দিন ধরে অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন, সন্তানকে বেডে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় ফ্যান। তাঁর ভাষায়, ‘সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যদি এমন নাজুক অবস্থা হয়, তাহলে আমরা সাধারণ গরিব মানুষ কোথায় যাব?’
সুলতানপুর গ্রামের রাজিয়া বেগম অসুস্থ নাতিকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর চালু না হওয়ায় গরমে তাঁর নাতির শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্য রোগী ও তাঁদের স্বজনেরাও।
এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহেল রানার সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালানো হয়। সোমবার রাতে কেন চালু করা হয়নি—এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে হয়তো একটু মিসটিক হয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত আইচ মজুমদার বলেন, ‘ইমার্জেন্সি সময়ে জেনারেটর চালানো হয়। সোমবার কেন চালানো হয়নি, বিষয়টি দেখব।’ জ্বালানি তেলের বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার থেকে এ জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তবে মাস শেষে অফিস থেকে তেলের খরচ বহন করা হয়।
নতুন জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সেটি নিয়মিত চালু না হলে রোগীদের জরুরি ও স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থে দেওয়া সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
