দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে প্রিয় শিক্ষককে ফুল, স্মারক ও ভালোবাসায় বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সেই বিদায় যে এমন নির্মম হবে, তা কেউ ভাবেননি। সংবর্ধনার কয়েক ঘণ্টা আগেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রাধাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহা (৫৯)।
সোমবার দুপুরে তাঁর অবসর উপলক্ষে বিদ্যালয়ে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা ছিলেন প্রস্তুত। কিন্তু ভোরেই আসে দুঃসংবাদ—নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন তপন কুমার সাহা। হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগও হয়নি তাঁর।
যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েক ঘণ্টা পর হাসিমুখে তাঁকে বিদায় জানানোর কথা ছিল, সেখানেই পরে পৌঁছায় তাঁর নিথর দেহ। মুহূর্তেই বদলে যায় বিদ্যালয়ের পুরো পরিবেশ। ফুল, স্মারক ও সংবর্ধনার আয়োজন পরিণত হয় শোকের আবহে।
বিদ্যালয়ের সহকর্মী লিমা আক্তার বলেন, দুপুরে তপন কুমার সাহাকে সংবর্ধনা ও স্মারক দেওয়ার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ভোরে খবর আসে, তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা গেছেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতা করা তপন কুমার সাহা রেখে গেছেন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে।
তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, তপন কুমার সাহার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁরা সবাই শোকাহত।
বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রবিউল আলম ওই বিদায় অনুষ্ঠানের অতিথি ছিলেন। তাঁরও কথা ছিল, জীবনের একটি অধ্যায় শেষ করে তপন কুমার সাহাকে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা ভালোবাসা দিয়ে বিদায় জানাবেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বিদায় হলো অন্যরকম। যে মানুষটি প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের পাঠ দেওয়ার কথা ছিল, তাঁর পরিবর্তে সেদিন বিদ্যালয়ে পৌঁছাল তাঁর মরদেহ।
জীবনের শেষ কর্মদিবসটি তপন কুমার সাহার জন্য হয়ে রইল শেষ উপস্থিতির দিন। যেখানে বিদায়ের ফুল হাতে অপেক্ষা করছিলেন প্রিয়জনেরা, সেখানে শেষবারের মতো তাঁকেই বিদায় জানাতে হলো অশ্রুসিক্ত চোখে




