মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন চিন্ময়। কারাগারে থাকা বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি পেয়েছেন।

জীবিত অবস্থায় ছেলেকে একনজর দেখার আকুতি ছিল চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণী ধরের। তবে সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মারা যান তিনি। এবার মায়ের শেষযাত্রায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন চিন্ময়।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ সংক্রান্ত আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সই করা আদেশে বলা হয়েছে, কোতোয়ালি থানার মামলা নং-৫২(১০)২৪-এর হাজতি আসামি চন্দন কুমার ধর প্রকাশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা বৃহস্পতিবার মারা যান। তার পারলৌকিক কার্যক্রম (সৎকার) বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় হাটহাজারীর মেখল এলাকার শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মায়ের সৎকার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য চিন্ময়ের পক্ষে তার ভাই রঞ্জন কুমার ধর আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তির সময় থেকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য চিন্ময়কে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়।

আদেশে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রামের প্রবর্তক শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির পরিচালনা কমিটির অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস বলেন, চিন্ময়ের প্যারোলে মুক্তির আদেশ নিশ্চিত হয়েছে। আদেশের কপি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর তাকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হবে।

তিনি জানান, চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণী ধরের মরদেহ বর্তমানে হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরে রাখা হয়েছে। সেখানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।

মাকে শেষবারের মতো দেখবেন ছেলে—তারপর আবার ফিরতে হবে কারাগারে।

চট্টগ্রাম কারাগার সূত্র জানায়, প্যারোলে মুক্তির পর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে সরাসরি হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধামে নেওয়া হবে। মায়ের মরদেহও সেখানে রাখা হয়েছে। শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর নির্ধারিত পাঁচ ঘণ্টা শেষে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

চিন্ময়ের শৈশব ও পারিবারিক স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুণ্ডরীক ধামেই শেষবারের মতো মায়ের মরদেহের পাশে দাঁড়াবেন তিনি। সেখানে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও অনুসারীদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে পুণ্ডরীক ধামে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় শুরু হয়েছে।

মাকে শেষবারের মতো দেখবেন ছেলে—তারপর আবার ফিরতে হবে কারাগারে।

অপূর্ণ থেকে গেল মায়ের জীবনের শেষ ইচ্ছা, পূরণ হলো শেষ বিদায়ের অধিকার।

সূত্র: কালবেলা