নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি পাকা গোয়ালঘরের তালা ভেঙে চারটি মহিষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর গ্রামের ইউসুফ হাজীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া মহিষগুলোর আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকা বলে দাবি করেছে পরিবারটি।

ইউসুফ হাজী জানান, তাঁর গোয়ালঘর থেকে দুটি বকনা ও দুটি ষাঁড় মহিষ চুরি হয়েছে। চারটি মহিষের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে এলাকায় একটি পিকআপ ট্রাক ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। পরে রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে কোনো একসময় চোরচক্র বাড়িতে প্রবেশ করে পাকা গোয়ালঘরের তালা ভেঙে চারটি মহিষ নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই পিকআপ ট্রাকেই মহিষগুলো নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

ইউসুফ হাজী বলেন, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ১১টার দিকে মহিষগুলোর পরিচর্যা শেষে গোয়ালঘরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে তালা দেন তিনি। রাতের খাবার শেষে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে এবং ভেতরে একটি মহিষও নেই। পরে আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও মহিষগুলোর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, মহিষগুলো বিক্রি করার জন্য কয়েকজন দালালের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয়েছিল। কয়েক দিন আগে তাঁর বাড়িতে এসে কয়েকজন দালাল মহিষগুলোও দেখে গিয়েছিলেন। তবে তাঁদের পরিচয় তিনি জানেন না।

ইউসুফ হাজী চুরি হওয়া মহিষগুলো উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘গুরুদাসপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চুরি রোধে পুলিশ প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।’

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ‘চুরির ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’